Light
Dark

চিপ সংকট, আয়ে ধস নামার শঙ্কায় অ্যাপল

চাহিদা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও উন্নত চিপের ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে চলতি প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে কম আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণাকে পেছনে ফেলে বিদায়ী প্রান্তিকে চমৎকার ব্যবসার পরও পরবর্তী প্রান্তিকের এই হতাশাজনক পূর্বাভাসের খবরের পরপরই আফটার আওয়ার্স ট্রেডিংয়ে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ পড়ে গেছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক জানিয়েছেন, তাদের নতুন পণ্যগুলোর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হলেও চিপ তৈরির জটিল প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং মেমোরি চিপের বিশ্বব্যাপী ঘাটতির কারণে তারা বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সংকট সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প মেমোরি চিপ সরবরাহকারী খোঁজার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের ম্যাকবুক নিও এবং হাই-এন্ড ম্যাকবুক প্রোর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চিপ সংকটের কারণে অ্যাপলের উৎপাদনের গতি কমেছে।

অথচ জুন মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের ব্যবসা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে অ্যাপলের মোট রাজস্ব আয় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৪২ কোটি ডলারে। এর মূল চালিকাশক্তি ছিল আইফোন, যার বিক্রি প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড পাঁচ হাজার ৪২৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ম্যাক সিরিজের কম্পিউটারের বিক্রি প্রায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৩৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে আইপ্যাড বিক্রিতে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে অ্যাপলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের উৎস সার্ভিস খাতের আয় ১২.১ শতাংশ বাড়লেও তা ওয়াল স্ট্রিটের আশা পূরণ করতে পারেনি। গেমিং খাতের মন্দা এবং অ্যাপ স্টোরের নীতিগত ও আইনি পরিবর্তনের প্রভাবেই এই খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হয়েছে বলে জানান অ্যাপলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কেভান পারেখ। এছাড়া চীন, তাইওয়ান ও হংকং অঞ্চল নিয়ে গঠিত গ্রেটার চায়নায় বিক্রি ২২ শতাংশের বেশি বাড়লেও তা বিশ্লেষকদের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি।

সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হতে যাওয়া চলতি প্রান্তিকে অ্যাপল ৯ থেকে ১১ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশিত ১২ শতাংশের চেয়ে কম। তবে অ্যাপল কর্তাদের মতে, এই মন্থর পূর্বাভাসের পেছনে গ্রাহক চাহিদার কোনো ঘাটতি নেই, মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে তাদের সীমিত সরবরাহ ব্যবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *