ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের (কেআরজি) প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির ব্যক্তিগত কার্যালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবনেও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিস সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তাদের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে উড়ে এসেছিল। তবে ড্রোনগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হামলায় কোনও হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে কুর্দি কর্তৃপক্ষ।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে কুর্দিস্তান কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিস জানায়, দুটি ‘হাদিদ-১১০’ ড্রোন কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং নিরাপত্তা অধিদফতরের প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ইরান থেকে হামলার অভিযোগ
কুর্দি নিরাপত্তা সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে চালানো হামলাগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছে। তবে হামলার জন্য সরাসরি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করা হয়নি।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির ব্যক্তিগত দফতর এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের বাসভবন।
হামলার পর কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হামলাটিকে ‘বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
বারজানি বলেন, “এটি একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, কুর্দিস্তানের জনগণের নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হামলা মেনে নেওয়া হবে না।
কুর্দিস্তানকে ঘিরে ইরানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ
ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল ইরানবিরোধী কুর্দি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে। ইরান এসব গোষ্ঠীকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশেষ করে ইরানি কুর্দি বিরোধী সংগঠনগুলোর কয়েকটি ঘাঁটি ও সদস্য কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হয়ে আসছে।
তেহরান অতীতেও এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তবে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার বরাবরই ইরানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কুর্দি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরাকের কুর্দিস্তানের ভূখণ্ড কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা হুমকি সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন হামলা
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে নতুন এই ড্রোন হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ইরানের সীমান্তবর্তী এবং একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে তেহরানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর এলাকা।
এ কারণে কুর্দিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য নয়, ইরাক-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবারের হামলায় হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও কুর্দিস্তান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানের বাসভবন একইসঙ্গে লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে কুর্দি কর্তৃপক্ষ।
হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং ইরান থেকে পরিচালিত ড্রোনগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পেরেছিল কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হামলার ঘটনায় ইরাকি কুর্দিস্তান ও তেহরানের মধ্যকার পুরোনো নিরাপত্তা বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। সূত্র: আল-জাজিরা









